আরব বিশ্বে স্বৈরতন্ত্র বিরোধী গণবিস্ফোরণ, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত সাম্রাজ্যবাদ

ইউরোপের পর এবার বিক্ষোভে উত্তাল আরব বিশ্ব। বহু বছর নানা বেশে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা স্বৈরশাসকদের গদি এখন টলায়মান। এর মধ্যে বিদায় নিয়েছে তিউনিশিয়ার স্বৈরশাসক বেন আলী, মিশরের হোসনী মোবারক। তিউনিসিয়ায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ সমগ্র আরব বিশ্বের দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসকদের সিংহাসনকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আন্দোলনের এই ঢেউ একে একে আছড়ে পড়েছে ইয়েমেন, বাহরাইন, লিবিয়া, সিরিয়াসহ আরো আরো দেশে।

তেল-সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোতে ’৬০-দশক পরবর্তীতে শিক্ষা ও চাকুরীর সুযোগ বেশ পরিমাণে বাড়তে থাকে। কিন্তু ৮০’র দশকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান কমতে থাকে। এক পর্যায়ে ৯০’র শুরুতে দ্রুত বাড়তে থাকে বেকারত্ব। এসব দেশের স্বৈরশাসক, তাদের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ লোকদের সীমাহীন দুর্নীতি, বিলাসীতা জনগণের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। জনগণের এই আন্দোলন-সংগ্রাম আরও একবার প্রমাণ করল সাম্রাজ্যবাদের দালাল, সমর্থনপুস্ট এ স্বৈরশাসকরা কতখানি গণবিচ্ছিন্ন। সাম্রাজ্যবাদ বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দাসানুদাস এ স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন সাম্রাজ্যবাদের কর্তা প্রভুদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাই, তারা একদিকে একে বর্বরভাবে দমনের উপায় বাতলে দিচ্ছে স্বৈরশাসকদের, অন্যদিকে আন্দোলনকে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করার জন্য তারা হাজারো ষড়যন্ত্রের ডালা নিয়ে মাঠে নেমেছে। এজন্য তারা আন্দোলনকে ব্যবহার করে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে কিছু সংস্কারের মাধ্যমে তাকে চালিয়ে নেবার কোষেষও করছে।

এ আন্দোলন-সংগ্রামের চালিকা শক্তি হিসেবে যারা আছে তাদের একটা বড় অংশ হলো তরুণ প্রজন্মের শিক্ষিত সম্প্রদায়। বেকারত্বের অবসান, স্বৈরশাসনের অবসান, দুর্নীতির অবসান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অবসান ইত্যাদি দাবী তাদের সামনে রয়েছে। গণতন্ত্র মানে এদের অনেকের কাছেই হলো ভোটের অধিকার ও নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা। এই রাজনৈতিক দুর্বলতারই সুযোগ নিতে পারছে সাম্রাজ্যবাদীরা। তারা পুরনো মুখ বদলে নতুন মুখ, নির্বাচিত মুখ আনার মাধ্যমে এই বিদ্রোহ প্রশমিত করতে চাচ্ছে।

অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের লবির বাইরে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরাচারী শাসকদের উচ্ছেদ করে তার অনুগত ব্যক্তিদেরকে শাসন ব্যবস্থায় প্রতিস্থাপন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নিরংকুশ আধিপত্য নিশ্চিতকরণে তারা সচেষ্ট হয়ে উঠেছে। লিবিয়াতে এটাই দেখা যাচ্ছে। সিরিয়া, ইরান এসব দেশেও তা ঘটতে পারে।

পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থা আজ নানামুখী সংকটে জর্জরিত। খোদ সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। আর সাম্রাজ্যবাদী প্রভুরা ততই দিশেহারা হয়ে তৃতীয় বিশ্বের তথা মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলোর শাসক শ্রেণীর সাথে লিয়াজোর মধ্য দিয়ে এ রাষ্ট্রগুলোর শাসন, শোষণ অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে করে তুলেছে তীব্রতর। নিপীড়িত এ জাতি-জনগণের সার্বিক মুক্তির জন্য প্রকৃত জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম, তথা সাম্রাজ্যবাদের করায়ত্ত্ব থেকে পরিপূর্ণ মুক্তি প্রয়োজন। এসব দেশে সাম্রাজ্যবাদের দালাল মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে বিপ্লবী রাজনীতি, অর্থাৎ, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ-এর ভিত্তিতে সমাজতন্ত্র কমিউনিজমের লক্ষ্যে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবই আন্দোলনরত জনগণের মুক্তির প্রকৃত দিশা দিতে পারে।

About andolonpotrika

আন্দোলন বুলেটিনটি হলো বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের একটি অনিয়মিত মুখপত্র
This entry was posted in আন্দোলন ৮. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s