আন্দোলন ১৫

Andolonpotrika 1 Page copy

Andolonpotrika 2 Page copy

Posted in আন্দোলন ১৫ | Leave a comment

বিটি বেগুনকে প্রতিরোধ করুন

বাংলাদেশে প্রায় ৩০ প্রজাতির বেগুন রয়েছে। তা সত্ত্বেও এর একটি প্রজাতিকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে জিএম বীজ তৈরী করেছে মার্কিন বহুজাতিক কুখ্যাত কোম্পানী মনসান্টো। এই বীজ ও বেগুন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে আসবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুতর ক্ষতি করবে বলে পরিবেশবিদ ও কৃষিবিদরা মনে করেন। কিন্তু সরকার একে দেশে অনুমোদন দেয়। তবে হাইকোর্টে এর বিপরীতে মামলা চলছে। হাইকোর্ট আপাতত এর উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই জিএম বীজকে প্রতিরোধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

Posted in আন্দোলন 15, সংগঠন সংবাদ | Leave a comment

‘গণঅধিকার সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত

গত ২৭ আগষ্ট, ২০১৩-এ ১১টি রাজনৈতিক ও প্রগতিশীল, সাংস্কৃতিক সংগঠন বা গ্রুপ-এর জোট ‘গণঅধিকার সংগ্রাম কমিটি’ নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও চলমান ব্যবস্থা বিরোধী সংগ্রাম চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই কমিটি চলমান কতগুলো রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করার লক্ষে গঠিত। এই কমিটি যে সব রাজনৈতিক ইস্যু ও মানদন্ডের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে তাকে আমরা ইতিবাচক মনে করি। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মোর্চাসমূহের সাথে ঐক্যবদ্ধ বা যুগপৎ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্দোলনের ঐক্যকে সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী করার যে আশাবাদ তারা ব্যক্ত করেছে আমরা তাকেও স্বাগত জানাই। আমরা আরো আশাকরি এই জোট তার সংগঠনের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেই আমাদের সংগঠন এবং আমাদেরসহ গঠিত চার প্রগতিশীল সংগঠনের রাজনৈতিক জোটের সাথে রাজনৈতিক ইস্যুর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করে সাম্রাজ্যবাদ ও শাসকশ্রেণী বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করবেন।

Posted in আন্দোলন 15, সংগঠন সংবাদ | Leave a comment

ময়মনসিংহে মাওসেতুঙের মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন

গত ১৩ সেপ্টেম্বর মহান কমিউনিস্ট নেতা মাওসেতুঙের ৩৭তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করা হয়। ময়মনসিংহ শহরে ভাসানী স্কুলে নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি দুই পর্বে করা হয়। প্রথম পর্বে আলোচনা সভা ও ২য় পর্বে শিক্ষাশিবির পরিচালনা করা হয়।

Posted in আন্দোলন 15, সংগঠন সংবাদ | Leave a comment

নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার জাতীয় কমিটির ২য় সভা অনুষ্ঠিত

কৃষক মুক্তি সংগ্রামের ৩য় সভা অনুষ্ঠিত
গত ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩-এ কৃষক মুক্তি সংগ্রাম-এর জাতীয় কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষক মুক্তি সংগ্রাম-এর কেন্দ্রীয় সংগঠক সভা পরিচালনা করেন। সভার শুরুতে নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার প্রতিষ্ঠাকালীন আহবায়ক ক.শিবলী কাইয়ুম-এর অকাল মৃত্যু ও দেশী বিদেশী বিপ্লবী গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সংগ্রামে শহীদ এবং তাজরিন ও রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দেশিয়-আন্তর্জাতিক, বিশেষত দেশীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংগঠন-সংগ্রাম পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Posted in আন্দোলন 15, সংগঠন সংবাদ | Leave a comment

জাতীয় স্বার্থ বিরোধী টিক্ফা চুক্তির বিরোধিতা করুন

সম্প্রতি বাংলাদেশের সরকার মন্ত্রি পরিষদের বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বানিজ্য বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক টিক্ফা চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এখন শুধুই পরে আনুষ্ঠানিক চুক্তি বাকি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মোজেনা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, ওয়াশিংটনে শিগগিরই বাংলাদেশের বানিজ্য মন্ত্রি গোলাম কাদেরের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষর হবে।
প্রায় সব মহলের বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকারের মন্ত্রি পরিষদ এই চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। এখন চূড়ান্ত স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। কি আছে এই চুক্তিতে? সরকারের শেষ সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
আমরা সবাই জানি কিছুদিন পূর্বে মার্কিন সরকার বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে। তারা রানা প্লাজার ধ্বসের কারণকে মূলতঃ অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু মার্কিন রাষ্ট্রদূত মোজেনা গত ২৮ জুলাই টিকফা চুক্তি স্বারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলে টিকফা চুক্তি সই না করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য ‘শুল্কমুক্ত’ প্রবেশাধিকার পাবে না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানতম বাংলাদেশী পণ্য হলো গার্মেন্টস সামগ্রী। বাংলাদেশের গার্মেন্ট পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা অর্থাৎ ‘শুল্কমুক্ত’ সুবিধার বাইরেই রেখেছে। মার্কিনীরা বাংলাদেশের যে সব পণ্যে জিএসপি সুবিধা দেয়, তা বলতে গেলে সে দেশে রপ্তানি করা হয় না বললেই চলে। সেই অর্থে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জিএসপি অর্থাৎ শুল্কমুক্ত সুবিধা মূলত পায় না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ৭৫ কোটি ডলার শুল্ক বাংলাদেশ থেকে পায়। দেশটিতে বাংলাদেশের মোট রফতানি প্রায় ৪৮০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে মাত্র ০.৫ শতাংশ পণ্য জিএসপি সুবিধা পায়। এই কারণে বাংলাদেশে পোশাক রপ্তানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা পাওয়ার জন্য দেনদরবার করেও আসছে।
এখন সরকার এবং মার্কিন লবির বিভিন্ন মহল যুক্তি দিচ্ছে টিকফা চুক্তি স্বার করলে মার্কিনীরা জিএসপি সুবিধা আবার ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু বিজিএমইএ-ই গুমর ফাঁস করে দিয়েছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পোশাক খাত মার্কিন সরকারের কাছ থেকে কোন শুল্কমুক্ত সুবিধাই পায় না। তাই মার্কিনীদের জিএসপি সুবিধা বাতিলে বাংলাদেশের জন্য কোন সমস্যাই হবেনা। এখন বুঝুন সরকারের মার্কিন প্রীতির নমুনা।
মার্কিনীরা বলছে এ চুক্তি স্বারের পর য্ক্তুরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে বাড়বে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিও। এই যে বিনিয়োগের কথা বলা হচ্ছে তাতে পণ্য উৎপাদন বাড়বে না। বরং টিকফা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সেবা খাতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সেবা খাতের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে মার্কিনীদের হাতে। বিশেষতঃ জ্বালানী, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সমুদ্র বন্দর, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ইত্যাদি মার্কিন পুঁজিপতিদের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। মার্কিনীদের অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ সেবা খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না। এই চুক্তি হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানীর জন্য বাংলাদেশের সেবা খাতকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বিশেষত জ্বালানী খাত এবং সমুদ্র বন্দরের উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা হবে।
এই চুক্তিতে প্যাটেন্ট সংক্রান্ত যে ধারা আছে তা বাংলাদেশের সদ্য বিকশিত ঔষধ শিল্পের উপর আঘাত হানবে। বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প বর্তমানে দেশের ৯৫% চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করছে। এই চুক্তিতে প্যাটেন্ট সংক্রান্ত ধারার কারণে দেশের মাঝারী এবং ছোট ঔষধ শিল্প বড় বড় বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানীর কাছে প্রতিযোগিতায় মার খাবে।
প্যাটেন্ট সংক্রান্ত ধারার কারণে কৃষির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। সাম্রাজ্যবাদের চাপে কৃষিতে ৫%-এর বেশী ভর্তুকী দিতে পারছে না সরকার। ফলে বাংলাদেশের কৃষিজ পণ্যের দাম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র নিজেই কৃষিতে ১৯%-এর বেশী ভর্তুকী দিয়ে তাদের কৃষি ব্যবস্থাকে সুরা দিচ্ছে। এই প্যাটেন্টের ফলে বাংলাদেশের বীজের উপর কৃষকদের অধিকার থাকবে না। মার্কিনসহ বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর লক্ষ হলো বীজের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। বীজ বিক্রি করে তারা ৪/৫ গুণ মুনাফা করবে। তারা আমাদের দেশের জীব-বৈচিত্র ধ্বংস করে দেবে, দেশের কৃষির উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। ইতিমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার ১৫০-২০০ উদ্ভিদের উপর মার্কিনসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানী প্যাটেন্ট অধিকার লাভ করেছে। নিম, উলট কমল, বহেরা, থানকুনিসহ বিভিন্ন ঔষধি উদ্ভিদের উপর তারা প্যাটেন্ট দাবী করছে। যে উদ্ভিদগুলো এ দেশে হাজার হাজার বছর ধরেই উৎপন্ন হয়ে আসছে।
আওয়ামী মহাজোট সরকার তাদের আগামী নির্বাচনে প্রভু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কৃপা লাভের জন্য তাদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তড়িগড়ি করে এই টিকফা চুক্তি করছে। আরেক দালাল গোষ্ঠি বিএনপি জোট এ প্রশ্নে টু-শব্দটি পর্যন্ত করছে না। তাই, বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণকে এ সম্পর্কে সচেতন করে এই চুক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। মার্কিনসহ সকল সাম্রাজ্যবাদ, দালাল বুর্জোয়া শাসকশ্রেণী উচ্ছেদের বিপ্লবী সংগ্রামকে বেগবান করেই জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তিকে রোধ করা সম্ভব।

Posted in আন্দোলন 15 | Leave a comment

শুধুমাত্র মওলানা শফীই নয়, সমগ্র সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী-পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাই নারীকে যৌনবস্তু বানিয়েছে

জুলাই ’১৩-এর শেষ দিকে হেফাজতের আমির মওলানা শফী’র একটি ভিডিও চিত্র বিটিভিতে ফলাও করে কয়েকদিন ধরে প্রচার করা হয়, যাতে তাকে দেখা যায় তেঁতুলের সাথে নারীদের তুলনা করে চরম নারী বিরোধী কথাবার্তা বলতে। প্রধানমন্ত্রিসহ আওয়ামী-মহাজোট ঘরানার রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী, বুদ্ধিজীবী এবং এনজিও’রা এ নিয়ে মহা হৈচৈ ফেলে দেয়। দেখাতে চায় যে, তারা কতইনা নারী মুক্তির পক্ষে আর যে মি.শফি ও হেফাজত নারীর এত বড় শত্রু তাকে কিনা বিএনপি সমর্থন দিচ্ছে। এটা যে আওয়ামী জোটের আরেকটি বিএনপি-বিরোধী নির্বাচনী প্রচার-কৌশল তা খুব কষ্ট করে বুঝতে হয় না।
মি. শফীর ভিডিও চিত্রের বক্তব্যটি প্রগতিশীল কোন ব্যক্তিই সমর্থন করবে না। কারণ এই বক্তব্যটি মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক/পুরুষতান্ত্রিক নগ্ন প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রগতিবিরোধী বক্তব্য তাতে সন্দেহ নেই। এতে নারীকে শুধু তেঁতুলই বলা হয়নি, যাকে দেখলে নাকি পুরুষমাত্রেরই লালা ঝরে, উপরন্তু তাতে বলা হয়েছে নারীরা ক্লাস ফোর/ফাইভের বেশি লেখাপড়ার দরকার নেই, কারণ তার মূল দায়িত্ব হলো স্বামীর সম্পদাদি দেখে শুনে রাখা। নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজ করা উচিত নয়, কারণ, তারা রাত-বিরেতে বাইরে থেকে অসামাজিক কাজ করে, নিজে নিজে বিয়ে করে। ইত্যাদি চরম প্রতিক্রিয়াশীল বক্তব্য এই মওলানা প্রদান করেছে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ও নারীর প্রতি জঘন্য দৃষ্টির দ্বারা।
বাংলাদেশে বিগত ৪২ বছর ধরে আমরা দেখে আসছি হাজার হাজার ওয়াজ-মাহফিলে ধর্মান্ধ মৌলভিগণ নারী বিরোধী এইসব নসিয়ত করে চলেছেন। এমনকি এইসব ওয়াজ ক্যাসেট করে শহরে নগরে ও গ্রামাঞ্চলের পথে ঘাটে, ঘরে ঘরে বাজানো হচ্ছে। কিন্তু কখনো আওয়ামী লীগ, তার নেতা বা তাদের বুদ্ধিজীবীদেরকে এসব প্রশ্নে কথা বলতে শোনা যায়নি। তারা এসব ওয়াজকে নিষিদ্ধ করেনি। বরং তাদের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এ জাতীয় ওয়াজ সম্মেলনের ব্যবস্থা প্রায়ই করে থাকে বিভিন্ন এলাকায়।
অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদ নারী স্বাধীনতার নামে নারীদেরকে নগ্ন অর্ধনগ্নভাবে তেঁতুল হিসেবেই উপস্থাপন করছে। বোম্বাইয়া সিনেমায় আর দেশি-বিদেশি সব বিজ্ঞাপনে এসব তেঁতুলকেই দেখা যায়। কিন্তু এসবও সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী সংস্কৃতির কাছে নস্যিমাত্র। কারণ, তারা এখন সোজাসুজি কাপড়-চোপড় সম্পূর্ণ ফেলে পর্ণো ছবি চালাচ্ছে, যা ইদানীং আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মকে ব্যাপকভাবেই গ্রাস করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার বা আওয়ামী লীগের আমলে এসব তেঁতুল বিক্রি বেড়েছে বৈ কমেনি। হুজুররা নারীকে বোরখা পরিয়ে রাখতে চায়, কারও যাতে লালা না ঝরে; আর চলমান ব্যবস্থা নারীকে খুলেই রাখতে চায় যাতে সহজে মানুষের লালা ঝরে এবং তাদের বাণিজ্য/মুনাফা ভাল হয়। কারণ, নারী তাদের কাছে পণ্য বৈ আর কিছু নয়।
আওয়ামী জোট সরকার ও তাদের বুদ্ধিজীবীরা জোর গলায় প্রচার চালিয়েছে শফী হুজুরের বয়ান ইসলামের বিকৃতি; বিপরীতে তারই নাকি ইসলামের প্রকৃত ধারক-বাহক। আসলে প্রকৃত ইসলাম ও ধর্মের ধারক-বাহক যে কে সেটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে; তবে সে বিতর্ক যে শেষ হবার নয় তা বলাই বাহুল্য। তবে ধর্মীয় জ্ঞান শফী মওলানাদের থেকে হাসিনা আর ইনুর বেশি রয়েছে সেটা ভাবা ভুল হবে। ধর্মের ব্যাখ্যায় ঢোকার এই মূর্খতা আর বদমায়েশী মধ্যযুগীয় মূল্যবোধগুলোকেই শুধু শক্তিশালী করতে পারে। কোন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বা প্রগতিশীল চেতনা নয়। সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদীরা, আমাদের দেশে আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়ারা নিজেরা নারীকে নিয়ে ব্যবসা করে বলে তারা সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় এই মওলানাদের প্রতিক্রিয়াশীলতাকে সংগ্রাম করতে সক্ষম নয়। এরা পদে পদে ধর্মীয় মৌলবাদীদের সাথে আপোষ করে, জনগণকে প্রতারণা করে। তারা সুদীর্ঘদিন ধরে বুর্জোয়া নারীবাদের প্রতিনিধি তসলিমা নাসরিনকে দেশের বাইরে রেখে দিয়েছে; তাকে দেশে আসতে দিচ্ছে না। কেন? শুধু এইসব প্রতিক্রিয়াশীল মধ্যযুগীয় ধর্মীয় রাজনীতি ও ধর্মীয় নেতাদের চাপে। আর এরাই কিনা দাবি করছে তারা নারীদের মুক্তির সপক্ষের শক্তি।
বাংলাদেশ-ভারত, এমনকি সাম্রাজ্যবাদী দেশে নারীরা ধর্ষণ-গণধর্ষণের শিকার হচ্ছেন হরহামেশাই। সরকার সর্বত্র সহশিক্ষার ব্যবস্থা না করে নারীদের জন্য পৃথক মহিলা স্কুল-কলেজ করছে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রি নারীদের ‘শালীন’ পোশাক পরার নসিহত করেছে। এগুলো কি চেতনা ধারণ করে? প্রতি পরিবারের অভিভাবকগণ তরুণ মেয়েদেরকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় লালন-পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন এর কারণ কি? সিনেমা, নাটক, বিজ্ঞাপন, ব্লু ফিল্ম, ফ্যাশনশো, সুন্দরী প্রতিযোগিতা ইত্যাদি ইত্যাদির মাধ্যমে তারাও নারীদেরকে তেঁতুল হিসেবেই উপস্থাপন করছে।
’৯৭ সালে প্রগতিশীল নারী সংগঠনগুলোর চাপে আওয়ামী লীগ সরকার নারী নীতি ঘোষণা করেছিল। এই নীতিমালায় ‘উপার্জন, উত্তরাধিকার সম্পদ, ভূমি ইত্যাদি প্রশ্নে নারীর পূর্ণ ও সমান সুযোগ’ প্রদানের বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন থাকা সত্বেও হাসিনা সরকার এই নীতিমালা তখন পাশ করেনি, মৌলবাদীদের চাপের মুখে পিছিয়ে যায়। বর্তমানে মহাজোট সরকার যে নীতিমালা ঘোষণা করেছে তাতে উত্তরাধিকার সূত্রে জমি-সম্পদে নারীর সমঅধিকারের প্রশ্ন চতুরতার সাথে এড়িয়ে গেছে। তা সত্বেও ধর্মীয় মৌলবাদীরা জেহাদ ঘোষণা করলে হাসিনা সরকার নতজানু হয়ে বলেছে আমরা কোরান-সুন্নার বিরোধী নই। মহিলা ও শিশু বিষয়ক তৎকালীন প্রতিমন্ত্রি ড. শিরিন সারমিন চৌধুরী বলেছিলেন “নতুন নারী উন্নয়ন নীতির কোথাও উত্তারাধিকার সূত্রে সম্পদে নারীর সমঅধিকারের কথা নেই”। তিনি আরো বলেছেন, “মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী নারীর উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির বন্টন যেভাবে হয়েছে সেভাবেই হবে।”
এ ভাবে মহাজোট সরকার ধর্মীয় মৌলবাদীদের কাছে নতি স্বীকার করে মধ্যযুগীয় নারী বিরোধী আইন, মূল্যবোধ, তথা পুরুষতন্ত্রকে বহাল তবিয়তে রেখে দিয়েছে।
শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়া নারী হলেও তারা নারীর শত্রুদেরই প্রতিনিধিত্ব করে। নারীর শত্রুদের পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থা উচ্ছেদ ব্যতীত নারীর প্রতি এই জঘন্য দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হতে পারে না। শুধুমাত্র কমিউনিজমের আদর্শে একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবই পারবে নারীকে পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করতে। যে সমাজ নারীকে মানুষ হিসেবে পরিপূর্ণ সম্মান ও মর্যাদা দেবে। পুরুষও হয়ে উঠবে প্রকৃত মানুষ।

Posted in আন্দোলন 15 | Leave a comment